Friday, 30 January 2015
Darun.....
Mohammad Salahuddin
অনেক হিন্দু ধর্মালম্বি আস্ফালন করে বলেন যে ভারতে নাকি মুসলিমদেরকে প্রেসিডেন্ট,প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে,এটা নাকি তাদের ঔদার্যবোধের প্রমান,কিন্তু এর পেছনে কি ধরনের চাণক্য বুদ্ধি কাজ করেছেও তথা আইওয়াশ করেছে তা অনেকেই জানেন না(ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চাণক্য পণ্ডিতের জন্মস্থান আজকের পাকিস্তানে)
সে যাই হোক না কেন,দেখা যাক ভারতের এই (মুসলিম!!!) রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতিদের পরিচয়।
ভারতের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রপতি হিসেবে চালানো হচ্ছে জাকির হোসাইনকে।যে কথাটি অনেকেই জানেন না সেটা হল জাকির হোসাইন ছিলেন একজন ফারসি অগ্নি উপাসক ধর্মের মানুষ,ফারসি নাম দিয়ে তাঁকে মুসলিম হিসেবে চালানো হচ্ছে।শুধু তাই নয় জাকির হোসাইন ছিলেন একজন চরম রকমের ধর্মবিদ্বেষী সেকুলার মানুষ।
মোহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ নামের এক ব্যাক্তিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতি উভয় পদে আসিন হতে দেখা গেছে।এই ব্যাক্তিটি বিয়ে করেছিলেন পুস্পা শাহ নাম্নী এক হিন্দু নারীকে।আপনারা সাইফ,সালমানের বাবা সেলিম খান,শাহরুখদের উদাহরণ দেখেছেন তারা হিন্দু নারী বিয়ে করে কি রকম মুসলিম হিসেবে আছে।
এপিজে আবুল কালাম এই তালিকার সবচেয়ে কুৎসিত উদাহরণ,যেই ব্যাক্তিটি ৭ বছর বয়সের পর থেকে কোনদিন মসজিদে যায়নি(Wings of Fire পড়ে দেখুন)।সকালে উঠে প্রতিদিন রামায়ন পড়ে,নিয়মিত মুর্তিপুজা করে,তাঁকে হিন্দু পেজগুলিতো বটেই আরএসএস ও হিন্দু বলেই দাবি করে।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া মির্জা হামিদুল্লাহ বেগ এবং আলতামাস কবির ছিল শিয়া ধর্মালম্বি।আর আজিজ মুসাব্বের আহমাদি ছিল কাদিয়ানি ধর্মের মানুষ।
এভাবেই এদেরকে মুসলিম হিসেবে চালানো হচ্ছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরসিদ ছিল কাদিয়ানি এবং কমিউনিস্ত রাজনীতির সাথে জড়িত।তার মেয়ে হিন্দু ছেলে বিয়ে করেছে।
বিজেপির কেন্দ্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত মুখতার আব্বাস নাকভি এবং শাহনেওয়াজ হুসাইন দুজনই শিয়া এবং হিন্দু নারী বিয়ে করেছে,সিকান্দার বখতের হালও হুবহু একই।মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছিল যারা “বন্দে মাতরম” গাইবে না তাদের ভারতে থাকার অধিকার নেই, বুঝে দেখেন কত নেককার মুসলিম এরা।
ভারতের শিয়ারা কিভাবে মুসলিমদের উপরে ষড়যন্ত্র করেছে তা অনেকেই জানেন না
হযরত আওরঙ্গজেব(রহঃ)এর মৃত্যুর পরে ভারতে মুসরিক মারাঠা শক্তি প্রবল হয়ে ওঠে।তারা একের পর এক দক্ষিণ থেকে মধ্য ভারত জয় করে ফেলে।তারা ইসলামকে নির্মুল করতে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে।তাদের সাথে যোগ দেয় শিখরাও।তখন শাহ অয়ালিইল্লাহ(রহঃ)এর আহবানে আফগান মহানায়ক আহমাদ শাহ আবদালি ১৭৬১ সালে মারাঠাদের মূল নেতাদের বলতে গেলে সবাইকে সহ ১ লক্ষ মারাঠা সেনাকে জাহান্নামের টিকেট ধরিয়ে দেন,১৭৬২ সালে ১২ হাজার শিখ সেনাকে হত্যা করে ১ লাখ শিখকে তিনি হত্যা করে শিখদের তেরোটা বাজিয়েছিলেন।কিন্তু যে কথাটি সবাই জানে না সেটা হল ভারতের শিয়ারাও সে সময়ে গাজি সালাউদ্দিন(রহঃ)এর বিরুদ্ধে ক্রসেডারদের সহায়তার ভুমিকার মত,১২৫৮ সালের হালাকু খানকে সহায়তার ভুমিকার মত ৫০০ বছর পরেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুফরি শক্তিকে সহায়তা করেছিল।তাই শাহ অয়ালিইল্লাহ(রহঃ)মারাঠাদের মত শিয়াদের বিরুদ্ধেও জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন।কারন এই শিয়ারা তখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে মারাঠাদের সহায়তা করছিল এবং তারাও মুসলিম নিধনে মেতে উঠেছিল,তাই শাহ ওয়ালিউল্লাহ(রহঃ) আবদালিকে লেখা চিঠিতে মারাঠাদের সাথে শিয়াদের অত্যাচারের কথা এবং তাদের বিরুদ্ধেও মারাঠাদের মত জিহাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ভারতের গত সংসদ নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়াম স্বামী বলেছিল যে শিয়া,কাদিয়ানি,সুফিরা বিজেপিকে সমর্থন করে,মোদী যে গুজরাটের শিয়া এলাকাগুলিতে সমর্থন পাচ্ছে সেকথাও ভারতের পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়।বিভিন্ন সময়ে বিজেপি যে দাড়িটুপি ওয়ালা “মুসলিমদের” কে মোদীর সাথে এক অনুষ্ঠানে দেখিয়েছে তারা আসলে ছিল শিয়াদের বোহরা সম্প্রদায়ভুক্ত যারা আসলে অমুসলিম।শিয়া নেতা কালবে জাওয়াদ ও বিজেপিকে সমর্থন দেবার কথা প্রচ্ছন্নভাবে বলেছে নির্বাচনের আগে।এরা বিজেপিকে সমর্থন করে কারন তারা আসলে অমুসলিম। গুজরাতে মুসলিমদের দাঙ্গায় মার খাবার আরেকটি প্রধান কারন হচ্ছে গুজরাটে শিয়াদের সংখ্যা ভারতের অন্যান্য জায়গা থেকে তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি।হিন্দু এবং শিয়া মিলে গুজরাটে অমুসলিম জনসংখ্যা ৯০ ভাগের কাছাকাছি।তাই দাঙ্গাতে প্রশাসনের শত্রুতা এবং ৯০ ভাগ অমুসলিমের হামলার সামনে মুসলিমরা বিপদে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
মুলত এভাবেই শিয়া,কাদিয়ানি,সুফি,কমিউনিস্টদেরকে মুসলিম হিসেবে চালিয়ে মুসলিমদের প্রতি সুবিচার করার এবং মুসলিমদের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতি করার গোয়েবলসিয় প্রতারনা এভাবেই চলছে ভারতে।
ভারতের সাচার কমিশন রিপোর্তের মাধ্যমে বোঝা গেছে যে মুসলিমদের অবস্থা ভারতে কত করুণ।ব্রিটিশ আমলে ১৯৪৭ সালে ভারতের সরকারি চাকরীর ৩৪ ভাগ ছিল মুসলিমদের হাতে।কিন্তু ব্রিটিশরা চলে যাবার পর থেকে ভারতে মুসলিমের প্রতি বৈষম্য চালু হয় এবং সরকারি চাকরি থেকে মুসলিমদের অদৃশ্য হওয়া শুরু হয়।হিন্দুরা অনেকে বলে যে ভারতের মুসলিমরা নাকি ধর্মিয় গোঁড়ামির কারনে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে আছে!!!কথাটা যে কতটা বানোয়াট তার প্রমান পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে যে পরিমাণ মুসলিম ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হয়েছে ভারতে তার ২০ ভাগের এক ভাগ মুসলিম ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হল না কেন?ভারতের মুসলিমরা কি পাকিস্তান/বাংলাদেশের মুসলিমদের চেয়ে বেশি ধার্মিক নাকি বেশী স্বাধীনভাবে ইসলাম পালন করতে পারে?আরএসএস বজরং শিবসেনার কারনে তো ভারতের মুসলিমরা ইসলাম নিয়ে টিকে থাকতেই হিমসিম খাচ্ছে,তাহলে কি করে ভারতের মুসলিমরা পাকিস্থান/ভারতের চেয়ে বেশি গোঁড়া মুসলিম হবে যে তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
আপনারা যারা পাশ্চাত্যে আছেন তারা পাশ্চাত্যে বসবাসরত অনেক মুসলিম পাকিস্তানি/বাংলাদেসি ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার পাবেন,কিন্তু ভারত থেকে আসা কোন মুসলিম ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার দেখেছেন পাশ্চাত্যে?দেখলেও কালেভদ্রে,অথবা সে সিয়া/কাদিয়ানি,এর কারন হিন্দুদের ইসলাম বিদ্বেষ, পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানি আবদুল কাদিরের জন্ম ছিল ভারতের ভুপালে,পাকিস্তানে সেনাপ্রধান/রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী এসেছে ভারতের মুসলিমদের মধ্যে থেকে,দেশভাগের আগে ভারতের আইসিএস মুসলিম অফিসারদের বেশিরভাগ এসেছিলেন এখনকার ভারত থেকে,তারাই পাকিস্থান/বাংলাদেসের উন্নয়নে অনেক ভুমিকা রেখেছিলেন দেশভাগের পরে আর আজ ভারতের সরকারি চাকরি,শিক্ষা সব জায়গাতে মুসলিমদের কোন অবস্থান নেই কেন?কেন ভারতের মুসলিমরা পাকিস্তান আর বাংলাদেশের মুসলিমদের থেকে পিছিয়ে পড়ল যেখানে কিনা ভারতের মুসলিমরা ব্রিটিশ আমলের আগে এগিয়েছিল?মাউন্তব্যাতেন পুর্ববঙ্গকে বলেছিলেন নোংরা ডোবা,যেখানে শিক্ষা/অবকাঠামো কিছু ছিল না,ব্রিটিশ আমলে পুর্ববঙ্গের মুসলিমদের চেয়ে এখনকার ভারতের মুসলিমরা শিক্ষা/অর্থ সবকিছুতে এগিয়ে ছিল,কিন্তু ব্রিটিশ আমলের পরে এই করুণ অবস্থা কেন হলো ভারতের মুসলিমদের?,আসল কারনটা হল ব্রিটিশ আমলের আগে পুর্ববঙ্গের মুসলিমরা ছিল হিন্দু জমিদারদের থাবার ভেতরে,ব্রিটিশ আমলের পরে হিন্দুদের বিদায়ের পরেই পুর্ববঙ্গের মুসলিমরা স্বাধীনভাবে বাঁচার/শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিল,কিন্তু পুর্ববঙ্গের মুসলিমদের চেয়ে ভারতের মুসলিমরা ব্রিটিশ আমলের আগে শিক্ষায়/অর্থসম্পদে এগিয়ে থাকলেও ব্রিটিশ আমলের পরে ভারতীয় মুসলিমরা হিন্দু শাসনের জোয়ালে যাবার কারনে সবদিক থেকে নিগৃহীত হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment