Friday, 30 January 2015
Nabiji
Md Raihan Sharif wrote a new note: প্রসঙ্গ : মুহাম্মদ (সাঃ) ও আয়েশার বিয়ে.
হাদিস অনুযায়ী মুহাম্মদ (সাঃ) আনুমানিক ৫৩ বছর বয়সে ৯ বছর বয়সের আয়েশাকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন। এর উপর ভিত্তি করে ইসলামবিদ্বেষীরা যে কত রকমের ব্যঙ্গ-চিত্র আর ব্যঙ্গ-কাহিনী ফেঁদে প্রচার করেছে, তার কোনো হিসাব নাই। ইসলামকে হেয় করার জন্য এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রথমেই ব্যাপারটাকে এভাবে চিন্তা করে দেখুন: ধরা যাক, আপনার বাবা'র বিরুদ্ধে স্বয়ং আপনার মা'র কোনো অভিযোগ নেই। আপনার নানা-নানী'র কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি পাড়া-প্রতিবেশী ও দেশবাসীরও কোনো অভিযোগ নেই। অথচ আজ থেকে চৌদ্দশ' বছর পর আফ্রিকার কিছু লোকজন 'নারীবাদী' সেজে আপনার মা'র জন্য মায়াকান্না জুড়ে দিয়ে আপনার বাবা'কে বিভিন্নভাবে 'অপরাধী' বানানোর চেষ্টা করছে। ব্যাপারটা কেমন শুনাবে? নিঃসন্দেহে হাস্যকর, পাগলামী, ছাগলামী, মাতলামী, তাই নয় কি?
অনুরূপভাবে- মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সাথে আয়েশার বিয়ে নিয়ে যেখানে স্বয়ং আয়েশার কোনো অভিযোগ ছিল না, আয়েশার পিতা-মাতা'র কোনো অভিযোগ ছিল না, আয়েশার আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কোনো অভিযোগ ছিল না, এমনকি সেই সময়ের ইহুদী-খ্রীষ্টান-মুশরিক-নাস্তিকসহ সারা বিশ্বের কারোরই কোনো অভিযোগ ছিল না - সেখানে চৌদ্দশ' বছর পর এসে কিছু দু'পেয়ে হনু আয়েশার জন্য মায়াকান্না জুড়ে দিয়ে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একজন 'মস্তবড় অপরাধী'র কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। হনুদের মাথায় ঘিলু বলে কিছু থাকলে একটা ব্যাপার অন্তত বুঝা উচিত ছিল যে, মুহাম্মদ (সাঃ) যদি আয়েশাকে বিয়ে না করতেন তাহলে ইতিহাসে আয়েশার কোনো অস্তিত্বই থাকত না। অথচ যাঁর মাধ্যমে আয়েশা আজ ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছেন সেই আয়েশার পক্ষ নিয়ে তাঁকেই হনুরা 'অপরাধী'র কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। হনুরা আসলে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একই সাথে একজন 'অসৎ', 'লম্পট', ও 'নারীলোভী' ধরে নিয়ে চৌদ্দশ' বছর পর এসে তাঁর বিচার করছে। অথচ ব্যাপারটা আসলে পুরোপুরি উল্টো। মুহাম্মদ (সাঃ) যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন তখন তিনি একাধারে সৎ, সত্যবাদী, বিশ্বস্ত, ও আল্লাহর রাসূল হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কাজেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সাথে বিয়ের সময় আয়েশার বয়স যা-ই হোক না কেন (It doesn't matter), তাতে আয়েশার জন্য এযুগের হনুদের মায়াকান্না স্রেফ কুম্ভিরাশ্রু ছাড়া আর কী হতে পারে? এ যেন মায়ের চেয়ে সৎ-মায়ের দরদ-ই বেশি! এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর বিরুদ্ধে হনুদের অভিযোগগুলো দেখা যাক।
অভিযোগ: মুহাম্মদ ৫০+ বয়সে ৯ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন। আধুনিক যুগের আইনে তাকে গ্রেফতার করে জেলের ভাত খাওয়ানো যায়। তাছাড়া আধুনিক যুগের আইন দিয়ে বিচার করলে মুহাম্মদ একজন ধর্ষক ও শিশুকামী প্রমাণ হয়।
হনুদের এই 'আধুনিক যুক্তি' অনুযায়ী সবার আগে আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ-সহ অনেককেই গ্রেফতার করে জেলের ভাত খাওয়ানো যায়। তাছাড়া একই 'যুক্তি' অনুযায়ী আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ-সহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিই ধর্ষক ও শিশুকামী প্রমাণ হয়। সেই সাথে হনুদের পূর্ব-পুরুষদেরও অনেকে হয়তো ধর্ষক ও শিশুকামী প্রমাণ হবে। কিন্তু হনুরা যেহেতু শুধুমাত্র ইসলামের নবীকেই আধুনিক যুগের আইনে গ্রেফতার করে জেলের ভাত খাওয়াচ্ছে, 'ধর্ষক' ও 'শিশুকামী' বানিয়ে দিচ্ছে, সেহেতু তারা স্রেফ ইসলামবিদ্বেষী ভণ্ড প্রমাণ হচ্ছে। তবে মুসলিমরা এই ধরণের ছাগলামী-মার্কা যুক্তিতে বিশ্বাস করে না।
কথায় বলে- খলের ছলের কোনো অভাব হয় না। হনুদের মধ্যে অতি ধূর্ত কেউ কেউ এই পর্যায়ে এসে 'যুক্তি' দিতে পারে এই বলে যে, মুহাম্মদ যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন তখন মুহাম্মদের বয়স ছিল ৫০+ আর আয়েশার বয়স ছিল মাত্র ৯। কাজেই তাদের বয়সের পার্থক্য অনেক বেশি। এক্ষেত্রে জবাব হচ্ছে হনুরা যেহেতু আধুনিক যুগের আইন দিয়ে মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সমালোচনা করছে সেহেতু আধুনিক যুগের আইনে ১৮ বছরের পর আর কোনো পার্থক্য করা হয় না - অর্থাৎ আধুনিক যুগের আইনে ১৮ যা ৫৮-ও তাই। কাজেই আধুনিক যুগের আইনে মুহাম্মদ (সাঃ) ও রবীন্দ্রনাথ-সহ আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই।
অভিযোগ: মুহাম্মদ যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন তখন তিনি একজন নবী ছিলেন, সাধারণ কেউ ছিলেন না।
ঠিক। তবে আয়েশাকে বিয়ের আগে মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বপ্রথম ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সের এক বিধবা নারীকে বিয়ে করে সেই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ দীর্ঘ ২৫ বছর) আর কাউকে বিয়ে করেননি। হনুরা এই বিয়ের কথা বেমালুম চেপে যায়। কেননা এই বিয়ে তাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে আছে। কাজেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর জীবনে যেমন ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সের বিধবা নারীকে বিয়ে করে সেই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো বিয়ে না করার নজির আছে, তেমনি আবার ৫০+ বয়সে ৯ বছর বয়সের আয়েশাকে বিয়ে করার নজিরও আছে। আর এগুলোর সবই হাদিস-সিরাত অনুযায়ী। কোরআনে এগুলোর কিছুই উল্লেখ নেই। তাছাড়া এগুলো ঈমানের কোনো অঙ্গও নয়।
যাহোক, একমাত্র মনুসংহিতা ছাড়া আজ থেকে কয়েক দশক আগ পর্যন্তও কোনো দেশেই বিয়ের ব্যাপারে বয়স-সীমা নির্ধারণ করে কোনো রকম আইন-কানুন ছিল না। তবে বর্তমানে প্রায় সব দেশেই বিয়ের ব্যাপারে বয়স-সীমা নির্ধারণ করে কিছু আইন করা হয়েছে, যদিও সব দেশের বয়স-সীমা এক নয়। আজ থেকে কয়েক দশক পর হয়তো এই আইনগুলো আবারো সংশোধন করা হবে। যুগের প্রেক্ষাপটে এটা ঠিক আছে। অথচ বর্তমান যুগের কিছু মানুষের তৈরী করা সংজ্ঞা ও আইনের উপর ভিত্তি করে হনুরা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একজন 'শিশুকামী' ও 'ধর্ষক' বানিয়ে দিয়ে প্রচার করছে। হনুদের কথাবার্তা থেকে বুঝাই যায় তারা আসলে ইসলামের নবীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজেদের শিশুকামী ও ধর্ষকামী মনোভাব প্রকাশ করছে।
মুহাম্মদ (সাঃ) আজ থেকে চৌদ্দশ' বছর আগে কতগুলো বিয়ে করেছেন, কেমন বয়সী নারীদেরকে বিয়ে করেছেন --- ইত্যাদি বিষয়ে সেই সমাজের লোকজন কি কোনো কৈফিয়ত চেয়েছিল? না। তারা কি মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর কোনো বিয়ের বিরুদ্ধে ছিল? না। তাঁর কোনো স্ত্রীর পরিবারের লোকজন কি বিয়ের বিরুদ্ধে ছিল? না। মুহাম্মদ (সাঃ) কি কাউকে জোর করে বিয়ে করেছিলেন? না। তাহলে আজ কারা আয়েশার জন্য মায়াকান্না করে? আজ কারা কৈফিয়ত চায়? কাদের কাছে কৈফিয়ত চায়? এখানে কৈফিয়ত-টৈফিয়ত দেওয়ার আসলে কিছুই নাই।
নোট: বিয়ে করা বা না-করা, স্ত্রীর সংখ্যা, স্ত্রীর বয়স, ইত্যাদি বিষয়গুলো নবী হওয়া বা না-হওয়ার কোনো শর্ত নয়। কেউ বিয়ে না করেও নবী হতে পারেন। কারো একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি নবী হতে পারেন। কারো স্ত্রীর বয়স প্রচলিত বয়সের চেয়ে কম-বেশি হওয়া সত্ত্বেও তিনি নবী হতে পারেন। অতএব, সত্য সন্ধানীরা হনুদের এই ধরণের প্রপাগ্যাণ্ডা থেকে বিভ্রান্ত হবেন না বলেই বিশ্বাস।
1 hr · Public
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment