Tuesday, 25 November 2014
জিম নাওয়াজ
Md Zim Nawaz
কবীর সুমন ও পরিচয় পাত্রের পরিচয় উদ্ঘাটনঃ
সেই ভাবে পরিচয় ছিল না। এখন বিখ্যাত! ক্ষুরধার যুক্তিতে মহীরুহের কুপোকাত! পাল্টা যুক্তিতে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা। বিফল! আত্মতুষ্টি- উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তি খন্ডন করতে অপারগ! সাময়িক ভাবে যুদ্ধক্ষেত্র (ফেবু) থেকে পলায়ন! শুভেচ্ছা বার্তায় ইনবক্স ভর্তি। এই জয় ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে! কেনই বা থাকবে না! পরাজিত লোকটির নাম সুমন। ধর্মান্তরিত মোল্লা কবীর সুমন!
সুমন আজ জেহাদিদের পৃষ্ঠপোষক! জেহাদি মাতা মমতার প্রশংসক! সংবাদ মাধ্যমের সমালোচক! ইসলামের প্রচারক! জেহাদিদের হয়ে প্রেস কনফারেন্সের নায়ক! তাই তাকে তো ধরাশায়ী হতেই হবে।
কিন্তু হঠাৎ করে পরিচয় পাত্ররা জেগে উঠলেন কেন? কেনই বা যুদ্ধ ঘোষণা করলেন- সুমনের বিরুদ্ধে? কবীর সুমন তো এর আগেও কথিত জংলী জঙ্গি মাও ছত্রধরের হয়ে গান লিখেছেন! মমতা দেবীর কড়া সমলোচনা করেছেন। বিক্ষুব্ধ টি এম সি হয়েছেন। তখন পরিচয়দের পরিচয় জানা যায়নি। হয়তো তারা আনন্দিতই হয়েছিলেন! তাই তারা ছিলেন বেপাত্তা! সত্যি কথা বলতে সুমন সব বলতে পারেন! সব করতে পারেন! কিন্তু মুসলিমদের হয়ে কথা বলতে পারেন না। কারণ মুসলিমরা সন্ত্রাসবাদির জাত!
কবীর সুমন কি সত্যি সত্যিই জেহাদিদের তাবেদারী করেছেন? মিডিয়াকে আক্রমন এবং মমতা সরকারের হয়ে সওয়াল কি উদ্দেশ্য প্রণোদিত? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের মধ্যে থেকে কবীর সুমন এবং পরিচয় বাবুর চিঠি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবো।
খাগড়াগড় কান্ড নিয়ে বঙ্গ রাজনীতি তোলপাড়। প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার খবরের বহর দেখে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে- বাংলা বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে। বোমা বানাতে গিয়ে দুজন নিহত। এক শাকিল গাজী এবং অন্যজন স্বপন মন্ডল ওরফে শোভন মন্ডল। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা সুত্র উল্লেখে মিডিয়া মারফৎ আমরা শাকিলের জীবন বৃত্তান্ত জেনেছি। অজ্ঞাত কারণে জানতে পারিনি- স্বপন মন্ডল ওরফে শোভন মন্ডলের কুণ্ডলী। পত্রপত্রিকার খবরা খবর এবং টিভিতে বিদগ্ধজনদের আলোচনায় মৃত দুজনের মধ্যে শাকিল বহু চর্চিত হলেও ব্রাত্য থেকে গেছেন স্বপন মন্ডল ওরফে শোভন মন্ডল। ঘুণাক্ষরেও তার নামটি উচ্চারিত হয় না। খাগড়াগড় কান্ডের সাথে প্রথমে যোগ হয় আল কায়দার। এরপর সিমি- আই এম- আসাম রাজ্যের অখ্যাত সন্ত্রাসী মুসলিম সংগঠন সহ একাধিক নাম। অবশেষে সর্বসম্মতিক্রমে জে এম বি অর্থাৎ জামায়াতুল মুজাহিদিন নামক সংগঠনের সম্পৃক্ততায় শীলমোহর পড়ে। খাগড়াগড় কিন্তু খাগড়াগড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি। সন্ত্রাসের জাল উদ্ঘাটিত হয় একাধিক মাদ্রাসায়। মিডিয়ার প্রচারে মনে হতে থাকে মাদ্রাসাগুলি সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। এবার দেখে নেওয়া যাক- মাদ্রাসা নিয়ে মিডিয়ার প্রচার এবং অপপ্রচারঃ
আলোচনায় প্রথমে শিমুলিয়া মাদ্রাসার নাম উঠে আসে। গোয়েন্দাদের তদন্তের আগেই মিডিয়া রিপোর্ট তৈরি করে ফেলে। বলা হতে থাকে এই শিমুলিয়া মাদ্রাসা থেকে শতাধিক আত্মঘাতী ছাত্রী প্রশিক্ষিত হয়েছে এবং তাদের বিয়ে হয়েছে অন্য প্রশিক্ষিত ইসলামিক সন্ত্রাসবাদি যুবকদের সাথে।টিভির পর্দায় দেখানো হতে থাকে ১০ কাঠা জমির উপর টালির ছাউনি দেওয়া মাটির ছয়টি ঘর নিয়ে তৈরি আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত সন্ত্রাসী ট্রেনিং সেন্টারটি! দেখানো হতে থাকে মাটির ঘরে নীচের দিকে থাকা জানালাগুলি ( যদিও মাটির ঘরের জানালা সাধারণত নীচের দিকেই থাকে)। বলা হতে থাকে এই জানালাগুলি দিয়েই নাকি চলতো বন্দুক প্রশিক্ষণ! কিছু টিনের বাক্স দেখানো হয় (হোষ্টেল-মেসে ছাত্র ছাত্রীরা এরকম টিনের বাক্স ব্যবহার করে থাকে) । সন্দেহ করা হয় সেগুলিতে অস্ত্র মজুত থাকার কথা। নূরানি কায়দার বই দেখিয়ে বলা হতে থাকে জেহাদি বই। হয়তো আল কায়দা আর নূরানি কায়দা মিডিয়া একাকার করে ফেলেছে! অবশেষে এন আই এ স্নিফার কুত্তা নিয়ে মাদ্রাসায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়। দুখানা পুকুরের জল চেঁছে ফেলা হয়। কটা ছেঁড়া বস্তা আর পচা ন্যাকরা উদ্ধার হয়। পাশের গ্রামের ইমাম সাহেবকে দিয়ে সন্দিহান আরবি উর্দুতে লেখা জেহাদি বইগুলি এন আই এ অনুবাদ করায়। দেখা যায়- সেগুলি সিলেবাসেরই বই। নাহ- এগুলি মিডিয়া আর প্রচার করেনি। এবিপি আনন্দ (বর্তমানে অনেকেই যাকে বিজেপি প্রচারক বলে মনে করছে) - শিমুলিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রীর সরাসরি সাক্ষাতকার সম্প্রচার করে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছিলেন বিখ্যাত এবিপির সুমন। মেয়েটি ভোর থেকে রাত্রিতে ঘুমানো পর্যন্ত মাদ্রাসা জীবনের রুটিং বলেছিল। ছাত্রীটির নিষ্পাপ কথা শুনে একবারও মনে হয়নি যে- সে মিথ্যা বলছে। সুমনের গোয়েন্দাগিরি প্রশ্নের উত্তরে কোথাও সন্ত্রাসবাদের ট্রেনিং এর আভাস পাওয়া যায় নি। মেয়েটি শুধু বলেছিল মাদ্রাসায় ঢোকার পরে ঈদের ছুটি পর্যন্ত ২মাস বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি। ২১বছরের ছাত্রীটির উত্তরে সুমনের আকাঙ্ক্ষা পুরণ না হওয়ায় সুমন তাকে ৪ থেকে ৫ বার বাচ্চা মেয়ে বলে সম্বোধন করে। ২১ বছরের ছাত্রী বাচ্চা মেয়ে! সাক্ষাৎকারের পরে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে দেখানো হতে থাকে- ২মাস বাইরে বের হতে না দেওয়ার কথা। বলা হতে থাকে এটি নাকি চাঞ্চল্যকর তথ্য! আমি নিজে আল-আমীন-মিশনের ছাত্র ছিলাম। আমাদের মিশনেও ছুটি ছাড়া ক্যাম্পাসের বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ। আমার জানা প্রায় সব আবাসিক গুলিতেই একই নিয়ম। এই বিষয়টি এবিপির না জানার কথা নয়। তার পরেও ব্রেকিং নিউজ... এরপর লালগোলার মকিম নগরের মাদ্রাসার কথা উঠে আসে। তার সাথে আরো অসংখ্য মাদ্রাসার নাম। ইতিমধ্যে ৫০০টির বেশি মাদ্রাসাতে তল্লাশি করা হয়েছে। সেগুলি থেকে একটি সূতলি বোমা পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। কিন্তু মাদ্রাসা নিয়ে মিডিয়ার কুৎসা থেমে থাকে নি। মাদ্রসাগুলির পরিকাঠামো, সিলেবাস, আধুনিক শিক্ষা, ভূতভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতেই পারে। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই যে সেগুলি শিক্ষা কেন্দ্র। একরাতে যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পুলিস ঢুকলে হোক কলরব বলে কোলকাতার আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দেওয়া হল। এই মোল্লা কবীর সুমন সেদিন পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। সেদিন কিন্তু পরিচয় বাবুর মত লোকেরা তাঁকে মাথায় তুলে নেচেছিলেন। আজ যখন মাদ্রাসা নামক শিক্ষা কেন্দ্রগুলির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সুমনবাবু সোচ্চার হয়েছেন তখন তাকে এই পরিচয় বাবুরাই সন্ত্রাসবাদিদের পৃষ্ঠপোষক বলছেন! কেন এই দ্বিচারিতা? যাদবপুর ইউনিভার্সিটি পাঁচতারা সেই জন্যে? যাদবপুর ইউনিভার্সিটিও তো কথিত মাওবাদিদের আখাড়া বলে প্রচারিত! মাদ্রাসাগুলিতে এতীম মিস্কিন সমাজের নিন্মবিত্ত গরীব ছেলে মেয়েরা পড়ে সেই জন্যেই কি তাদের পক্ষে কথা বলা যাবে না? নাকি সেগুলি মুসলিমদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাই সেগুলি পক্ষে কথা বলা বারণ? কথা বললেই কি সন্ত্রাসবাদি মৌলবাদী ট্যাগ খেতে হবে? যাইহোক হিন্দুত্ববাদীরা এবং তাদের দোসর গণমাধ্যমগুলি মানুষের মনে বদ্ধমূল ধারণা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যে এই মাদ্রসাগুলি সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুড়ঘর। ভবিষ্যতে মাদ্রাসার ১৬ বছর বয়সের ছাত্র আমিরুদ্দিন খানের মত অসংখ্য মাদ্রাসার ছাত্রকে পুড়িয়ে মারা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না আর এর বিরুদ্ধেই কবীর সুমনের প্রতিবাদ।
এবার পরিচয় পাত্রের খোলা চিঠির বিষয়ে আসা যাকঃ
পরিচয় বাবু আপনার পুরো চিঠি পড়ার পরে অনুধাবন করলে সহজেই বোঝা যায় যে আপনি প্রগতিশীল মানসিকতার আড়ালে নিজের উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা গোপন খেলা খেলেছেন। যুক্তি তৈরি হয় তথ্য এবং তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আপনি তথ্য জালিয়াতি করেছেন। যেখানে তথ্য জালিয়াতি থাকে সেখানে যুক্তি নয় বরং কুযুক্তি প্রতীয়মান হয়। কবীর সুমন বাবুর মত বিদগ্ধ লোক আপনার কুযুক্তি খন্ডন না করে আপনাকে পাত্তা না দিয়ে একদম সঠিক কাজ করেছেন। আমি এখানে আপনার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাবো আপনি তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে কিভাবে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। তার আগে বলে নেওয়া ভালো আপনার মধ্যে সৌজন্যতাবোধ নামক কোন বিষয় অবশিষ্ট নেই। আপনি যুক্তি যাই দেখান না কেন- শ্রী-জানব বা ঈদ-পুজার শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করেন না। এই সম্বোধনগুলি বা শুভেচ্ছা বার্তার মধ্যে ধর্ম নয়, থাকে সৌজন্যবোধ। এর মধ্যে বিভাজন থাকে না, থাকে আন্তরিকতা।
আপনি পশ্চিম বাংলাতে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের জন্যে মমতা ব্যানার্জীকে দায়ী করেছেন। আপনি প্রমান করতে চেয়েছেন মমতা ব্যানার্জীর সাথে জামাত ই ইসলামের আঁতাত এর কথা। আপনি দেখাতে চেয়েছেন পশ্চিম বাংলাতে জামাত ই ইসলামের অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির হিসেব। আপনার মত প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আপনি মূলত পাঁচটি বিষয়ের অবতারনা করেছেন।
১) পুলিশের সহায়তায় জামাত ই ইসলাম বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে জনসভা করে।
২) ময়দানে জামাত ই ইসলাম যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত জামাতি সাঈদী-নিজামীর মত রাজাকারদের পক্ষে পুলিশের সহায়তায় জনসভা করে।
৩) শাহবাগের সমর্থনের মিছিলে পুলিশ বাঁধা দেয়।
৪) জামাতিদের বাঁধায় মমতা ব্যানার্জীর তিস্তা চুক্তির বিপক্ষে মত প্রদান।
৫) মুর্শিদাবাদে জামাত ই ইসলামের নব রাজনৈতিক সংগঠন ডাব্লু পি আই ১২% ভোট পায়।
এছাড়াও আপনি বহু বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এবং কবীর সুমনকে দোষারোপ করেছেন। সেগুলিতে আপনি অর্ধসত্য কথা বলেছেন। অর্ধসত্য কথা মিথ্যার চেয়ে ভয়ংকর। সেগুলিও আমি আমার সাধ্যমত আলোপাত করার চেষ্টা করবো। তার আগে প্রথমে আপনার ৫টি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা যাক।
প্রথম পয়েন্ট অনুযায়ী পুলিশের সহায়তায় জামাত ই ইসলাম বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত জামাতি রাজাকারদের পক্ষে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে জনসভা করে। একেবারে মিথ্যা কথা। আপনাকে চ্যালেঞ্জ করলাম- আপনি এটা প্রমান করে দেখান। জামাত ই ইসলামকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে কোনও জনসভা করতে দেওয়া হয় নি। পশ্চিম বাংলার প্রথম সারির ১১টি মুসলিম সংগঠন একটি জনসভা করেছিল। ১১টি সংগঠনের মধ্যে জামাত ইসলামী হিন্দের নামটাই ছিল না। সেই জনসভা বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে করা হয়নি। মমতা দেবীর প্রশাসনের ১০ গাড়ী র্যানফ অনেক আগেই তাদের আটকে দেয়। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত জামাতি রাজাকারদের পক্ষে ১১টি সংগঠন সেই জনসভা করেনি। তারা সেই জনসভা করেছিল বাংলাদেশে ইসলাম অবমাননাকারী কুলাঙ্গার ব্লগারদের বিরুদ্ধে। যে কুলাঙ্গাররা দিনের পর দিন আল্লাহ, ইসলাম, মোহাম্মদ (সঃ), কুরাণ এবং হাদিসকে অকথ্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে চলছিল। আপনার এরকম বিকৃত মিথ্যা অপপ্রচারের জন্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
দ্বিতীয় পয়েন্ট অনুযায়ী ময়দানে জামাত ই ইসলাম যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত জামাতি সাঈদী-নিজামীর মত রাজাকারদের পক্ষে পুলিশের সহায়তায় জনসভা করেছিল। আপনার একথাটিও সর্বৈব মিথ্যা। আপনি যে জনসভাটির কথা বলতে চেয়েছেন সেটিতেও জামাত ই ইসলাম হিন্দ নামটি ছিল না। সেই জনসভা ময়দানে নয়, শহীদ মিনার ময়দানে হয়েছিল। পশ্চিম বাংলার প্রথম সারির ১৫ টি মুসলিম সংগঠন এই জনসভা করেছিল। এই অধিকাংশ সংগঠনই নীতিগতভাবে জামাত ই ইসলাম হিন্দ বিরোধী। সেখানে তাদের জনসভা করা হয়েছিল বাংলাদেশের বহুল বিতর্কিত আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল কৃত সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে, রায় পরবর্তিতে একসপ্তাহের মধ্যে পুলিশের গুলিতে ২০০ জনের মৃত্যু এবং মানবধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশে ইসলাম অবমাননাকারী কুলাঙ্গার ব্লগারদের বিরুদ্ধে। এই জনসভা বাংলাদেশ জামাত ই ইসলামের নায়েব সাঈদীর পক্ষে নয়, বরং ইসলামিক স্কলার- এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সেরা তাফসীরে কুরান আল্লামা দিলোয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষে সমাবেশ হয়েছিল। এই সমাবেশের জন্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। সুতরাং এখানেও আপনি ইচ্ছাকৃত তথ্য বিভ্রাট ঘটিয়েছেন। এখানেও আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তৃতীয় পয়েন্ট অনুযায়ী আপনি বলেছেন- শাহবাগের সমর্থনের মিছিলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এখানেও আপনি মিথ্যার প্রশ্রয় নিয়েছেন। নন্দন চত্বরে গোটা পঞ্চাশেক মানুষের জমায়েতে সভা হয়েছিল। পুলিশের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়ায় সেই সভা হয়। সমস্ত টিভি চ্যানেলগুলি সেই সভা সম্প্রচার করে। পরের দিন পত্রপত্রিকাতে ঢালাও করে এই খবর ছাপা হয়। পুলিশের বাঁধা দেওয়ার কথা কোথাও দেখানো হয় নি বা লেখা হয় নি। এই অকাট মিথ্যার জন্যে কি আপনি ক্ষমা চাইবেন না?
চতুর্থ পয়েন্ট অনুযায়ী আপনি বলেছেন- জামাতিদের বাঁধায় মমতা ব্যানার্জীর তিস্তা চুক্তির বিপক্ষে মত প্রদান করেছেন। আপনি কি করে জানলেন? মমতা দেবী কি আপনাকে বলেছেন? বাংলা দেশের জামাত ই ইসলামী কি তিস্তা চুক্তি বিপক্ষে? আপনি আপনার কথার সমর্থনে একটি প্রমান দেখান যে বাংলা দেশের জামাত ই ইসলামী তিস্তা চুক্তি বিপক্ষে। আপনার ক্ষমতা নেই। হ্যাঁ একথা সত্যি যে মমতা ব্যানার্জীর তিস্তা চুক্তির বিপক্ষে মত প্রদান করেছেন। তিনি জামাতের সাথে আলোচনা করে নয়, বরং তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্য উত্তর বঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেবের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ। যে রাজনৈতিক পদক্ষেপের ভিত্তিতে বিগত বাম সরকার তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। যে রাজনৈতিক পদক্ষেপের ভিত্তিতে সেখ হাসিনা তলানীতে ঠেকা জন সমর্থন পুনঃ উদ্ধারের তাগিদে ভোটের তিন মাস আগে তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। সেজন্যেই একাধিকবার তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী দিপু মনিকে ভারত সফরে পাঠিয়েছিলেন। তাই আপনি অনুমান করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এখানেও মিথ্যার বেসাতি করেছেন।
পঞ্চমতঃ আপনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন- মুর্শিদাবাদে জামাত ই ইসলামের নব রাজনৈতিক সংগঠন ডাব্লু পি আই ১২% ভোট পায়। এই তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন মশাই? এই তথ্য দেখলেই বোঝা যায় আপনি প্রবীন তোঘাড়িয়ার সুযোগ্য সন্তান। আপনি সম্ভবত মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর লোকসভা নির্বাচনের কথা বলতে চেয়েছেন! ২০১২ সালে জঙ্গীপুর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ডাব্লু পি আই মাত্র ৪.৯০% ভোট পায়। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১% এরও কম ভোট পায়। ১% এর কম ভোটকে আপনি ১২% বানিয়ে ফেললেন! আপনি একজন জোচ্চোর ধাপ্পাবাজ মিথ্যাবাদী। ছিঃ এইভাবে মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনি সুমনবাবুকে আপনার যুক্তি খন্ডন করতে বলেন। সুমন বাবু তাতে সাড়া না দেওয়ায় আপনি কাপড় তুলে ধেই ধেই করে নাচছেন! সুমন বাবুর মত লোক আপনার কথার উত্তর দিতে পারেনি একথা প্রচার করে আবার পোষ্ট করছেন! এতো দেখছি লজ্জার মাথা খেয়েছেন। (চলবে)
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment