Wednesday, 26 November 2014
M.ali
মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদী তকমা কেন দেওয়া হচ্ছে !
***********************************************
আমেরিকার টুইন টাওয়ারে ৯/১১-এর হামলার পর থেকে ইহুদি-খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী অপশক্তিবর্গের সুরে সুর মিলিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টান লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং সংবাদ মিডিয়াগুলোর সাংবাদিকদের মুখে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়। আর তা হলো- ‘বিশ্বের সব মুসলমান হয়তো সন্ত্রাসী নয়; কিন্তু সব সন্ত্রাসী মুসলমান।
কথাটার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে যে সন্ত্রাসবাদ মানে মুসলিম সন্ত্রাসবাদ ।সন্ত্রাসবাদী মানে মুসলিম ।যদিও এটা প্রমানিত হয়নি আমেরিকার টুইন টাওয়ারে ৯/১১-এর হামলা মুসলিম জঙ্গিদের কাজ । এতে বিশ্বের যে কোনো ধর্মের লোকেরা হয়তো মনে করতে পারেন, সন্ত্রাসবাদ যেন মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য। আমরা মনে করি, প্রকৃত চিত্র পুরোপুরিভাবেই ভিন্ন। বাস্তব সত্য হলো মুসলিম সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টিকর্তা ও মদতদাতা হলো আমেরিকা । আল কায়দা র সৃষ্টিকর্তা ও মদতদাতা হলো আমেরিকা । আই এস আই এস সৃষ্টিকর্তা ও মদতদাতা হলো আমেরিকা এবং ইজরাইল ।
সমগ্র বিশ্ব ব্যাপী একটা প্রবনতা চলছে মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদী প্রমান করা । বাজারী পেটুয়া মিডিয়াগুলি এই ব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ।বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল ,সরকার ও সাম্প্রাদায়িক শক্তিগুলি যেন তেন প্রকারে ছলে বলে কৌশলে মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদী তকমা দিতে মরিয়া | আমাদের দেশ ভারতে ও এই প্রবনতা ভালো করে লক্ষ্য করা যাচ্ছে । বিজেপি ও তাদের সহযোগী উগ্র সাম্প্রদায়িক আর এস এস ,ভি এইচ পি সহ অন্য সাম্প্রদায়িক সংগঠন গুলি উঠেপড়ে লেগেছে মুসলিমদের জেহাদী , সন্ত্রাসবাদী তকমা দিতে ।এইসব কাজ সফলভাবে করতে তাদের সহযোগী পেটুয়া মিডিয়া গুলি মুসলিম বিরোধী প্রচারে যোগ্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে । বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল মিডিয়া র মাধ্যমে তারা মুসলিম বিরোধী মির্থ্যা প্রচার করে চলেছে । মুসলিমদের জেহাদী সন্ত্রাসবাদী প্রমান করার জন্য তারা নিত্য নুতন চক্রান্ত করে যাচ্ছে । সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা লক্ষ্য করলে ব্যাপারটা পরিস্কার বোঝা যাবে ।
বর্ধমানে বোরকাপরা এক মহিলাকে 'জঙ্গি' বলে অপমান করেছে বাস চালক ও কন্ডাক্টর। শুধু তাই নয়, ব্যাগ তল্লাশির অজুহাতে ওই মহিলার সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ও সোনার গহনা লুটের অভিযোগও উঠেছে। বেশ কিছু অশালীন মন্তব্যও করা হয় ওই দম্পতিকে লক্ষ্য করে। কেঁদে ফেলেন সাওয়া পারভীন।
পারভিনকে দেখে বলে, ‘এরা জঙ্গী। এদের ব্যাগগুলো ভালো করে দেখতে হবে।’
ওই দম্পতির অভিযোগ, তাদেরকে বলা হয়, ‘আপনারা আতঙ্কবাদী কি না সেটা বুঝব কি করে?’
স্বামীর সঙ্গে যাওয়া ওই মহিলার ব্যাগপত্র তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে নিজেদের ব্যবহারিক জিনিস ছাড়া অন্য কিছুই না পাওয়ায় তবেই তাঁদের যাওয়ার অনুমতি মেলে।
বর্ধমান বিস্ফোরন কান্ড খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে হয়েছে ।বর্তমানে কেদ্রীয় বিজেপি সরকারের বিভিন্ন তদন্ত কারি সংস্থা বিস্ফোরণ নিয়ে তদন্ত করছে ।খুব ভালো কথা ।সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক ।সন্ত্রাসবাদীদের কোন ধর্ম নাই । সন্ত্রাসবাদীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক । ফাসি কাঠে ঝোলানো হোক ।ইসলামে সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান নাই ।
কিন্তু বিজেপি মুখে দেশের সুরক্ষার কথা বলছে কিন্তু আসলে বিজেপি সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে মুসলিম সমাজে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী করতে চাইছে ।মুসলিম সমাজ ও ধর্মকে কালিমালিপ্ত করতে ইচ্ছুক ।অন্যদিকে সংখ্যাগুরু মানুষের মনে মুসলিম ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ভীতি ও অনাস্থা তৈরী করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়া যাচ্ছে ।
বিজেপির এসব করার পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি পরিস্কার ।বিজেপি পশ্চিম বাংলার ২০১৬ সালের নির্বাচন কে পাখির চোখ করে এগিয়ে যেতে চাইছে । মাদ্রাসা নিয়া সাম্প্রাদায়িক রাজনীতি করে মুসলিমদের দেশ বিরোধী .জেহাদী ,সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে বিজেপি মেরুকরণের রাজনীতির মাধ্যমে ২০১৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করাই লক্ষ্য ।বিভিন্ন কুত্সা ,মির্থ্যা প্রচার ও ,গুজব ছড়িয়ে তারা এই নোংরা খেলায় নেমেছে ।বিজেপির পেটুয়া মিডিয়া গুলি বিজেপির হয়ে কুত্সা করে চলেছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ।
মমতা অভিযোগ করেন যে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে চক্রান্ত ।খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পিছনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর হাত আছে।
এদিকে কয় একদিন পূর্বে অন্য একটি ঘটনায় আদালতের নির্দেশ মেনে হারিয়ানায় স্বঘোষিত 'গডম্যান' রামপালকে গ্রেফতার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। তার আশ্রমের ভেতর থেকে ইট-পাথর এবং গুলি-বোমা ছোড়া হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে।
রামপালের সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে রামপালের সমর্থকরা পুলিশের ওপর পেট্রোল বোমা, অ্যাসিডের পাউচ এবং গুলি ছোড়ে।
স্বঘোষিত ধর্মগুরু ভক্তদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। ৫ মহিলা ও এক শিশুর মৃত্যু হয়।আক্রান্ত হয় সংবাদমাধ্যমও।
গডম্যান রামপাল বাবাকে সুন্দরী ভক্তরা দুধ ঢেলে স্নান করিয়ে তৈরী হত ক্ষীরের প্রসাদ।আশ্রমের ভিতরে বহু মহিলাকে বিবস্ত্র করে নিগ্রহ করা হত।খুন সহ অপরাধমূলক কাজকর্মের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ভন্ড রামপাল বাবাকে।
অবাধ যৌনলীলা ও সন্ত্রাসবাদীদের তীর্থক্ষেত্র ছিল রামপালের আশ্রম। মাওবাদীরা প্রশিক্ষণ দিত রামপালবাহিনীকে ও আর এস এসকে।
১০ হাজার লাঠি ,তেলের ট্যাংকার ও প্রচুর বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার রামপালের আশ্রমে|
বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ,কমান্ডো পোশাক,রাইফেলের ডাঁই । রামপালের আশ্রমে বিস্ফোরক গ্রেনেড পাওয়া গেল। রামপালের আশ্রমটি আসলে সন্ত্রাসবাদী আখড়া ।রামপালের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী মাওবাদী যোগ পাওয়া গেছে। মাওবাদীরা রামপাল বাহিনী ও আর এস এস কে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিত। তাহলে রামপাল আশ্রমে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের এন আই এ তদন্ত হচ্ছেনা কেন ?
মিডিয়া রামপালকে ভন্ড সাধু ,শয়তান ইত্যাদি নামে অভিহিত করছে কিন্তু সন্ত্রাসবাদী বলতে তাদের আপত্তি আছে! বিজেপি ও সরকার দায়সারা মন্তব্য করে ঘটনাকে এড়িয়ে যাচ্ছে । ইদানিং মিডিয়াতে রামপালের খবর আর দেখা যাচ্ছে না ।কিন্তু যদি এইধরনের ঘটনায় মুসলিম নাম জড়িত থাকত তাহলে মিডিয়া ,বিজেপি ও সরকারের অতি উত্সাহের সঙ্গে জেহাদী ,সন্ত্রাসবাদী ,আন্তর্জাতিক যোগ ইত্যাদি কথা খুব গুরুত্ত সহকারে বিবেচনা করা হত ।বিভিন্ন তদন্ত করি সংস্থা কে দিয়ে তদন্ত করা হত ! এটাকে দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিবা বলা যায়!
এবার একটু দেখে নেওয়া যাক সন্ত্রাসবাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।মুসলিম বিশ্বসহ তৃতীয় বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে একইরকম একটি কথা প্রচলিত আছে- ‘সব খ্রিস্টান খারাপ নয়; কিন্তু নিজেদের ভান্ডারে মজুদ রাখা লাখ লাখ টন মানববিধ্বংসী বোমা ফেলে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ধ্বংস ও গণহত্যার জন্য খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী অপশক্তিবর্গরাই দায়ী।’ সন্ত্রাস নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, ১৮৮১ সালে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন রাশিয়ার ভ্যার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ও তার আশপাশে থাকা ২১ জন মানুষ। ১৯০১ সালে সন্ত্রাসীরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ম্যাককিনলে ও ইতালির রাজা প্রথম হামবার্টকে হত্যা করে। অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্লান্সিস ফার্ডিনান্দ সস্ত্রীক সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়ার কারণেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়। এসব সন্ত্রাসী হামলা মুসলমানরা চালিয়েছে কী? সাধারণত রাজনৈতিক কারণে বেসামরিক জনগণ হত্যাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলা হয়। মাও সে তুং থেকে হো চি মিন ও ফিদেল কাস্ত্রো পর্যন্ত তাদের গেরিলারা বিপ্লবী আন্দোলন চালানোর সময় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে। বিপ্লব সফল না হওয়া পর্যন্ত তাদেরও সন্ত্রাসী বলা হতো। তবে এ কথা অকাট্য সত্য যে, তাদের সঙ্গে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে হাগানা, ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাংয়ের মতো ইহুদি সম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো আরব দেশগুলোতে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালায়। তারা বোমা মেরে হোটেল উড়িয়ে দেয়; শত শত নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি মুসলমানকে হত্যা করে। ফিলিস্তিনের তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকও এসব ইহুদি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে সঠিকভাবেই সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এসব ইহুদি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর বহু সন্ত্রাসীই পরে ইসরায়েলের নেতা হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন মোশেদায়ান, আইজ্যাক রবিন, সেনচেম বেগিন ও এরিয়েল শ্যারন; কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, এসব ইহুদি সন্ত্রাসবাদী নেতাই পারে স্বাধীনতাকামী আরবদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে। ১৯৬৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত জার্মানির বাদের মেইনহুফ গ্যাং শত শত মানুষকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে জার্মানির ট্রুহ্যান্ডও রয়েছেন। ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলদো মোরোকে সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘রেড ব্রিগেড’ প্রথমে অপহরণ করে তারপর হত্যা করেছে। জাপানের রেড আর্মি ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর এশিয়ার সংস্করণ। উম শিনরিকিওর মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর জন্মস্থানও জাপান। ভুলে যাওয়ার কথা নয়, ১৯৯৫ সালে এই সন্ত্রাসীরাই টোকিওর পাতালরেলে হামলা চালিয়ে বহু লোককে হত্যা করে। আর ধর্মীয় পরিচয় ধরলে ইউরোপে আইরিশ রিপাবলিকান আর্মিকে বলতে পারি ক্যাথলিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। বিগত প্রায় ১০০ বছর ধরে এই সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা চলছে। স্পেন এবং ফ্রান্সেও ইটিএ ও বাস্ক এর মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলো অভ্যন্তরীণ সংঘাত, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও গৃহযুদ্ধে এতটাই বিপর্যস্ত যে, সেখানে কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে আখ্যা দেয়ার মতো কেউ কোনো সুযোগও পায় না। মহাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত এরা ছড়িয়ে আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত উগান্ডার লর্ডস স্যালভেশন আর্মি। খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী এ গোষ্ঠীটি শিশু-কিশোর ও কিশোরীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করতে পাঠাচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় তামিল টাইগাররা বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই সন্ত্রাসবাদীরাই প্রথম শিশু-কিশোর-কিশোরীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়। এরা সবাই হিন্দু সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী। ভারতের হিন্দু সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতায় তামিল টাইগাররা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তাদের হাতেই ১৯৮১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নিহত হন। । তবে এরা কেউই সন্ত্রাসী নয়; কিন্তু ভারতে ডজন ডজন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিনদ্রানওয়ের পাঞ্জাব মিলিট্যান্ট। এরা সবাই শিখ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী। আসামের উলফা। এরা হিন্দু সাম্পদায়িক সন্ত্রাসবাদী। এদের প্রধান লক্ষ্য মুসলমান নির্মূল করা। ত্রিপুরাও বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। আসামে বোড়োরাও বেশ শক্তিশালী। মিজোরামে খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদীরা বেশ কয়েক দশক ধরে একই ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। নাগাল্যান্ডের খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদীরাও এখন অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশের পার্বত্য খাগড়াছড়ি, পার্বত্য রাঙামাটি, পার্বত্য বান্দরবান, বৃহত্তর সিলেট, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও বৃহত্তর দিনাজপুরে খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদীদের কয়েক ডজন সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দেশি-বেদেশি অসংখ্য খ্রিস্টান মিশনারি ও এনজিও এদের মদদ দিয়ে যাওয়ার অসংখ্য খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও ভারতের কয়েক ডজন হিন্দু সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর মদদে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের খুলনা জেলা থেকে উত্তরের পঞ্চগড় জেলা পর্যন্ত পদ্মা-যমুনার পশ্চিমপাড়ের জেলাগুলো নিয়ে তথাকথিত বঙ্গবন্ধু নাম দিয়ে এদেশের হিন্দু সাম্প্রদায়িক একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় একাধিক খবর প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের ৬০০ জেলার মধ্যে প্রায় ২৮০ জেলায় মাওবাদীদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাদের হাতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর শত শত সদস্য নিহত হয়েছে। এদের নাম সেক্যুলার সন্ত্রাসী। সদস্য ও এলাকার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের দিক দিয়ে সেক্যুলার | আর সন্ত্রাসবাদ মুসলমানদের একচেটিয়া অধিকারও নয়। বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, শিখ এমনকি বৌদ্ধদের মধ্যেও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী অসংখ্য গোষ্ঠী রয়েছে। অপরদিকে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও সেক্যুলার নামধারী সন্ত্রাসবাদীদের হাতেই বিশ্বের দেশে দেশে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ইহুদি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী হাগানা, ইরগুন ও স্টার্ন গ্র্যাং সংস্থা, বাদের মেইনহুফ গ্যাং, জাপানের রেড আর্মি, উম শিনরিকিও, ইউরোপজুড়ে খ্রিস্টান ক্যাথলিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইআরএ, স্পেন ও ফ্রান্সে ইটিএ ও বাস্ক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, উগান্ডার খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লর্ডস স্যালভেশন আর্মি, সুদানের দারফুরে খ্রিস্টান সাম্পদ্রায়িক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী, রেড ব্রিগেড, তামিল টাইগার, ভারতের শিখ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী পাঞ্জাব মিলিট্যান্ট, ভারতের হিন্দু সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী বজরং ও আরএসএস গোষ্ঠী, আসামের উলফা, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডে খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদীদের অসংখ্য গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশে হিন্দু ও খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদী অসংখ্য সংগঠনের সন্ত্রাসবাদী হাজার হাজার সন্ত্রাসী তৎপরতা চালালেও কিংবা গণহত্যা সংঘটিত করলেও ৯-১১-এর পর ইউরোপ ও আমেরিকানদের নাকি আশঙ্কা জাগে, তারা যে কোনো স্থানে হামলার শিকার হতে পারেন। তাই তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই মুসলিম তথাকথিত জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইসরাইল, আফ্রিকা, উগান্ডা, সুদান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, জাপান, ভারত ও আমেরিকার সন্ত্রাসাবাদ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। কারণ ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসবাদীরা নাকি তাদের জন্য হুমকি নয়। তারা বিশ্বময় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে যে, একমাত্র মুসলমানরাই তাদের জন্য হুমকি। আর সে কারণেই বিশ্বের দেশে দেশে পশ্চিমা আধিপত্যবাদীদের ভাড়াটে এক শ্রেণীর মিডিয়া ও এলিটরা শুধু মুসলিম সন্ত্রাসবাদী দমনে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন। তাই আমরা বলছি, আর কতদিন ওদের ঢোল বাজাবেন?
আমেরিকা ,ইসরাইল ও সাম্রাজ্য বাদী শক্তি গুলি নিজেদের রাজনৈতিক ও ক্ষমতার লোভে মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়ে আরব সহ মুসলিম দেশ গুলি তে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার , খনিজ তেল সহ মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ লুট । আর ভারতে বিজেপি,,পেটুয়া মিডিয়া গুলি ও তাদের সহযোগীদের উদ্দেশ্য মুসলিমদের জেহাদী ,জামাতি ,দেশবিরোধী, বিপজ্জনক ,শত্রু , সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়ে মুসলিমদের উপর অত্যাচার ,নিপীড়ন ,দাঙ্গা ,ঘৃনা ,বিতাড়ন ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এর রাজনীতি করা । ,
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment