Tuesday, 25 November 2014

Karkare

‪#‎কারকারে‬ নিহতপ্রশ্ন, কী ভাবে ? সদ্যপ্রকাশিত একটি বই তুলেছে নানা প্রশ্ন৷ সেগুলি খতিয়ে দেখা দরকার৷ লিখছেন শাহনওয়াজ আলি রায়হান কাসভকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনানোর সময় বিচারপতি এম এল তাহালিয়ানি পরিষ্কার করে দেন যে , কার গুলিতে মুম্বই এ টি এস -এর প্রধান হেমন্ত কারকারে নিহত হয়েছেন , তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ কারকারে হত্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির তদন্তে ব্যর্থ হয়েছিল মুম্বই পুলিশের ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের দক্ষতার উপর বিচারপতি তাহালিয়ানি উষ্মা প্রকাশ করেন৷ তিনি ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী কন্সটেবল অরুণ যাদবের বয়ান পাল্টানোর ব্যাপারটিরও সমালোচনাও করেন৷ কারকারের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটটি ‘খোয়া যাওয়ায় ’ হাজির করানো যায়নি আদালতে৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসমক্ষে আনতে শুরুতে প্রবল অনিচ্ছা প্রকাশ করে মুম্বই পুলিশ৷ শেষ পর্যন্ত তা দিনের আলোয় আসে কারকারের পত্নী সবিতা কারকারের অক্লান্ত প্রচেষ্টায়৷ তার পরই উঠে আসতে থাকে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন৷ কারকারের শরীরে পাঁচখানা বুলেটের ক্ষত থাকা সত্ত্বেও মাত্র দু’খানা বুলেটেরই হদিশ পাওয়া গেল ? যেটা কাঁধ দিয়ে ঢুকে বগল ফুঁড়ে বেরিয়ে গেল সেটার না হয় হদিস মেলেনি , বাকি দুটো ? ‘দোষী ’রা বাগে এলেও বন্দুকটা পাওয়া গেল না কেন ? সব শট্ই যে ক্লোজ -রেঞ্জ ! তবে কি কেউ গাড়ির মধ্যে বসেই ঠান্ডা মাথায় গুলি চালায় মুম্বাই এ টি এস -এর এই নির্ভীক পুলিশ অফিসারের দিকে ? ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কনস্টেবল অরুণ যাদব আদালতকে জানান , গাড়ি দখলে নেওয়ার পর পুলিশ অপারেটর যোগেশ পাতিলের ফোন বেজে উঠতেই কাসভ ওপেন ফায়ার করে৷ আরও জানান , দখলে নেওয়ার পর কিছু ক্ষণ চলেই গাড়ির টায়ার ফেটে যাওয়ায় বিধানভবনের সামনে পেঁৗছতেই কাসভ -ইসমাইলরা অন্য গাড়িতে চলে যায়৷ প্রশ্ন হচ্ছে , মৃতের ভান করে গাড়ির পিছন থেকে এত কিছু প্রত্যক্ষ করা কনস্টেবল অরুণ যাদব তাঁর পুলিশকে দেওয়া কারকারে হত্যার বয়ানে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দেননি কেন ? অনেক পরে যখন তিনি কথাগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন , তখন তাতে অসামঞ্জস্য ও অতিরঞ্জন খুঁজে পান বিচারপতি৷ আঁটুনিতে বজ্রপাতকংগ্রেস মহাসচিব দিগ্বিজয় সিং -এর দাবি , মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে হেমন্ত কারকারে তাঁকে ফোন করে হিন্দুত্ববাদিদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাণসংশয়ের হুমকির কথা জানান৷ তর্কের খাতিরে ধরা যাক দিগ্বিজয়ের এই দাবির পিছনে রাজনৈতিক কারণই প্রকট৷ কিন্ত্ত একই আশঙ্কা কারকারে মৃত্যুর আগে তাঁর কাছেও জাহির করেছিলেন দাবি করে মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার জুলিও রিবেরি -ও কি এমন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চান ? সন্ত্রাসের গেরুয়া আবরণ উন্মোচন করে থ্রেট -কল পাওয়ার মতোই তো কাজ করেছিলেন মুম্বই এ টি এস -এর প্রধান ! মালেগাঁও (২০০৬,২০০৮ ), সমঝোতা এক্সপ্রেস (২০০৭), আজমের (২০০৭), মক্কা মসজিদ (২০০৭) একের পর এক বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে দেশ৷ টিভির পর্দায় হাজি রুমালে ঢাকা মুখ , কোমরে দড়ি বাঁধা মুসলিম যুবকগুলোকে দেখে আসমুদ্র হিমাচল যখন পলকের নিমেষে সিমি , ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের মুণ্ডপাতের ফয়সালা শোনাচ্ছে , আরব সাগরের তীরে তখন এক ব্রাহ্মণ -সন্তান তাঁর তদন্তকে সন্ত্রাস দমনের চেনা গত থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন৷ মালেগাঁও বিস্ফোরণে ব্যবহূত মোটর -সাইকেলের মালিকানার হাওলা দিয়ে যাকে গ্রেন্তার করলেন , সেই সাধ্বী প্রজ্ঞা উগ্র হিন্দুত্ববাদি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত৷ সেই লিড ধরে কারকারে নাগাল পেলেন স্বামী দয়ানন্দ পান্ডে , লেফট্যানেন্ট কর্ণেল শ্রীকান্ত পুরোহিত , স্বামী অসীমানন্দ , ইন্দ্রেশ কুমার , সুনীল যোশী , রামচন্দ্র কাসাংগরা প্রমুখ আর এস এস , ভি এইচ পি , সনাতন সংস্থা , হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি , অভিনব -ভারত -এর ঘনিষ্ঠদের৷ থেমে গেল মসজিদ আর দরগার সামনে বোমা হামলা৷ তবে সমালোচনা থেকে পরিত্রাণ পেলেন না কারকারে৷ নরেন্দ্র মোদির জবানিতে দেশদ্রোহী , ‘সামনা ’-এ বালাসাহেব লিখলেন ‘আমরা তাঁর মুখে থুতু নিক্ষেপ করি ’৷ সাধ্বী প্রজ্ঞার হয়ে তদ্বির করতে প্রধানমন্ত্রীর দরবারে ‘লৌহপুরুষ ’ লালকৃষ্ণ আদবানি৷ তবু থামানো গেল না তাঁর তদন্ত৷ গেরুয়া সন্ত্রাসের (সৌজন্য তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম ) যে জট তিনি সবে খুলতে শুরু করেছিলেন তাঁর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নানা রাজ্যে ছড়ানো৷ উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে , মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও ও গুজরাটের মোডাসা বোমা -বিস্ফোরণে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির ‘কো -অর্ডিনেটেড ইফোর্ট’ খুঁজে পান কারকারে৷ ভালই এগোচ্ছিল হেমন্ত কারকারের তদন্ত৷ তার পরই হঠাত্ ২৬/১১ –র রাতে থেমে গেল সব কিছু৷ যদি না থামত ?নন্দঘোষের প্রস্থানপরে এস এম মুশরিফ মুম্বই হামলা সম্পর্কিত নথিগুলোর ব্যাখ্যা -বিশ্লেষণ করে জানান , জঙ্গিহানার আঁচ ইন্টিলিজেন্স ব্যুরো (আই বি ) অন্তত ঘটনার পাঁচ দিন আগেই পেয়েছিল৷ এমন কী জঙ্গিদের আসার রাস্তাও নাকি তারা জানত৷ তার পরও আই বি সম্ভাব্য জঙ্গিহানার কোনও তথ্যই মুম্বই পুলিশকে দেয়নি৷ বরং উপকূল রক্ষীদের দেয় , যার চৌহদ্দি অনেকটাই সীমিত৷ মুশরিফ মনে করেন গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা মুম্বই হামলার একটা বড় কারণ৷ এক দিকে তাজ , ট্রাইডেন্ট , সি এস টি জঙ্গিহানার শিকার হতে থাকে৷ অন্য দিকে বেশ কিছুদিন ধরে তক্কে তক্কে থাকা গেরুয়া সন্ত্রাসবাদীরা অশান্ত শহরের ঘোলা পরিবেশে বন্দুক দেগে সরিয়ে ফেলেন তাদের পথের কাঁটা কারকারেকে৷ একই রাতে যুগপত্ দু’টি ষড়যন্ত্র ? বিশ্বাস করতে কেমন একটা লাগছে ? তবে কারকারে হত্যার এই ‘দেশি -লিংক ’ দাবির সাপেক্ষে মহারাষ্ট্র পুলিশের প্রাক্তন আই জি , এস এম মুশরিফ কিন্ত নথি ঘেঁটে প্রচুর প্রমাণ দিয়েছেন তাঁর ৩১৯ পাতার ‘হু কিলড্ কারকারে ’ বইয়ে৷ তার পরও যদি কারও মনে হয় কাসভের সঙ্গেই ইয়েরওয়াড়া জেলের কবরটাই দাফনস্ত হয়ে গিয়েছে কারকারে হত্যার সব গুনাহ্? বাকি সব কন্সপিরেসি থিয়োরি ? মুশরিফের জবাব , আমারটা বিকল্প তত্ত্ব , যা তদন্তের দাবি রাখে৷ মুম্বই পুলিশের ব্যালাস্টিক বিশেষজ্ঞদের ব্যর্থতা , প্রতক্ষ্যদর্শী কনস্টেবল অরুণ যাদবের বয়ানের অসামঞ্জস্যতা , বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটটির গায়েব হওয়া , সর্বোপরি বিচারপতি তাহলিয়ানির অসন্ত্তষ্টিও তো একই দাবির দিকে নিয়ে যায়৷ আমরা কি সেই দাবি তুলব ? নাকি ‘নন্দঘোষে ’র ফাঁসির জাতীয় আত্মতুষ্টিতে ‘অন্যদের ’ সব দোষ দেখেও না দেখার উত্সবে মাতব ?৷ 1 hr · Edited · Public Unlike Page · Report

No comments:

Post a Comment