Tuesday, 18 November 2014

Oopoprochar

কিছুদিন আগে আমি একটা হিন্দু পেইজে ঢুকে দেখলাম, হিন্দুরা অপপ্রচার করছে, হিন্দুদের সতীদাহ প্রথার উৎস নাকি মুসলমানরা। মুসলমানদের হাত থেকে হিন্দু বিধবাদের বাচাতেই নাকি সতীদাহ প্রথা চালু হয়। আসতাগফিরুল্লাহ। অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে, হিন্দুদের এ বর্বর প্রথা মোঘল বাদশাহগণ বিভিন্ন আইন করে বন্ধ করেছিলেন এবং মুসলমানদের কৃপার কারণেই হিন্দু বিধবারা আজ জীবন্ত দগ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পায়। একই ভাবে বিভিন্ন সময় মুসলমানদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস বিকৃত করে ফেলা হয়, উদ্দেশ্য ১- মুসলমানদের প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরিয়ে দেয়া, ২- মুসলিম হিরোদেরকে জিরো বানানো ৩- মুসলমানদের শত্রুদেরকে হিরো বানানো। একটি উদাহরণ দিলে বুঝতে সহজ হবে। যেমন ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু’র শাহাদাতের ঘটনার সাথে জড়িত তিনটি চরিত্রের দিকে লক্ষ্য করুন: ১) ঘৃণ্য কাফির ইয়াজিদ লানতুল্লাহি আলাইহি। অথচ একটি মহল থাকে তাবেয়ী, ভালো লোক হিসেবে প্রচার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক। ২) ঘৃণ্য কাফির সিমার লানতুল্লাহি আলাইহি। অথচ ভ্রান্ত শিয়া আকিদা বিশিষ্ট মীর মোশাররফ হোসেন তার বিষাদসিন্ধু নামক গল্পে মিথ্যা দাবি করে বসে: সিমারকে জান্নাতে না নিয়ে নাকি ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু নিজেই জান্নাতে জাবেন না। নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক।যা পুরোটাই মিথ্যা। ৩) হযরত মুখতার সাকাফি রহমতুল্লাহি। এ ব্যক্তি ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু’র শাহাদাতের সাথে জড়িত প্রত্যেককে কঠিন শাস্তি দিয়েছিলেন। এমনকি যারা মারা যায়, তাদের কবরের উপর বেত্রাঘাত পর্যন্ত করেছিলেন। অথচ এক বীরকে বিকৃত করে পরবর্তী বিকৃত ইতিহাস রচনা হয়, মুখতার সাকাফি রহমতুল্লাহি নাকি শেষ বয়সে নিজেকে নবী দাবি করেন। নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক, যা পুরোটাই মিথ্যাই। উদ্দেশ্য এক মুসলিম হিরোকে জিরো বানয়ে দেয়া। শুধু একটি বিষয় নয়, মুসলমানদের ইতিহাস বিকৃত করা কাফিরদের একটি পুরাতন স্বভাব, যা প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়। যেমন পাক-ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সূচনাই হয়েছিলো মুসলমানদের দ্বারা। মুসলমানদের মধ্যে এর সূচনা করেছিলেন হযরত সাইয়্যিদ আহমেদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি। তিনি বালাকোটের ময়দানে শিখ ও মুনাফিকদের চক্রান্তে শহীদ হন। উনার মুরীদ হযরত মীর তীতুমীর রহমতুল্লাহি বাশেরকেল্লায় ইংরেজ বিরোধী জিহাদে শাহাদাত লাভ করেন। কিন্তু কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী ইংরেজ লেখক উইলিয়াম হান্টার তার The Indian Musalmans নামক বইয়ে ইতিহাস বিকৃত করে এবং আহমেদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহিকে ওহাবী বলে মিথ্যা প্রচার করতে থাকে। পরবর্তী কালে উইলিয়াম হান্টারের পথ ধরে ইংরেজ তৈরীকৃত মৌলভী রেজা খা ইতিহাস আরো বিৃকত করে মুসলমানদের গৌরভ উজ্জল ব্রিটিশ বিরোধী মুজাহিদদের কাফির বলে ফতওয়া দেয় এবং ব্রিটিশ বিরোধী জিহাদকে অনুচিত বলে দাবি করে। কূটচক্রীদের মূল লক্ষ্য ছিলো মুসলমানদের গৌরভ উজ্জল ব্রিটিশ বিরোধী ইতিহাস লুকিয়ে ফেলা। এজন্য দেখবেন এখন মুসলমানরাই ব্রিটিশ বিরোধী ইতিহাস টানতে গেলে মুসলমানদের নাম খুজে পায় না, নিয়ে আসে গান্ধী, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা কিংবা সূর্যসেনের মত কট্টর ইসলামবিদ্বেষী হিন্দুদের নাম। যদিও এরা আসলে ব্রিটিশ বিরোধীতায় কেউই ছিলো না। তার মানে, মুসলমানদের ইতিহাস লুকিয়ে ফেলার ঘৃণ্য চক্রান্ত হয়ে গেছে, যদিও মুসলমানরা সে সম্পর্কে পুরোই বেখবর।

No comments:

Post a Comment