Monday, 10 November 2014

Chillah

ইলিয়াসী তাবলীগ ও রাসূল - সঃ এর তাবলীগ ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াতের কার্যকলাপ ২ ইলিয়াস মেওয়াতী সপ্নে এই তাবলীগ জামায়াতের কার্যকলাপ পেয়েছেন এবং রাসুল (সঃ) প্রণীত পাঁচ উসুল বাদ দিয়ে ছয় উসুল আবিষ্কার করেছেন। তার মালফুজাত বইয়ের ৫০ নাম্বার মালফুজাত খুব মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলেই এই জামায়াতের আসল উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে। রাসুলের (সঃ) সপ্ন ওহীরুপে গণ্য হয়, কিন্তু অন্য কোনও ব্যক্তির সপ্ন ওহী হিসাবে গণ্য হয় না। কিন্তু ইলিয়াস মেওয়াতী তার নিজের সপ্নকে নবুয়াতের অংশ বানাতে চায় (দেখুন মালফুজাত গ্রন্থের ৫০ নাম্বার মালফুজাত)। ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াত করতেন এমন এক ভাইয়ের বাড়ির কাছেই তাবলীগ জামায়াতের মারকাজ ও মসজিদ। এই মসজিদের সামনেই হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বাড়ি, মসজিদ থেকে সেই বাড়িতে যেতে ১-২ মিনিটের পথ। কিন্তু ভুলক্রমেও মারকাজ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পরিচালনা পরিষদের কেউই কোনও দিনও হিন্দু বা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যায় না। তারা বলে হিন্দু-খ্রিস্টান থেকে দূরে থাকতে হবে, অথচ এই মারকাজ থেকে দূর দুরান্তে তাবলীগীরা দাওয়াত দেয়ার জন্য চলে যায়, কিন্তু ঘরের কাছের অমুসলমানরা ইসলামের দাওয়াত পায় না। এই একতরফা তাবলীগ করা কি তাবলীগ নাকি তাবলীগের নামে লুকোচুরি। উক্ত ব্যক্তি রাহবার হিসাবে একবার তাবলীগ জামায়াতের গাশতে বের হয়ে একটু সামনে আগালে একজন হিন্দু লোক আসল, তিনি মুতাকাল্লেমকে বললেন যে, উনি একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক, উনাকে দাওয়াত দেয়া যায় কিনা। জবাবে মুতাকাল্লেম বললেন যে না না তাকে ডাকা যাবে না। হিন্দু-খ্রিস্টান থেকে দূরে থাকলে ইসলামের দাওয়াত দিব কাদেরকে ? নবী করীম (সঃ) অমুসলমানদের মুসলমান করেছেন। অথচ নবিওয়ালা কাজের দাবীদার ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াতের অনুসারীরা অমুসলমানদের দ্বীনের দাওয়াত দেয়া তো দুরের কথা এদের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলে। আমরা যদি হিন্দু-খ্রিস্টানদের দাওয়াত না দেই তাহলে মুসলমান বানাব কাদেরকে ? অথচ খ্রিস্টান মিশনারির মাধ্যমে খ্রিস্টানরা তো ঠিকই খ্রিস্ট ধর্মের প্রচার ও প্রসারের কাজ করে যাচ্ছে। ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াতের মিশন কি ভিন্ন নাকি ? কি সেই গোপন মিশন ? ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াতের অনুসারীরা বলে তিন চিল্লাহ দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে। শুধুমাত্র তিন চিল্লাহ দিলেই যদি জান্নাতে যাওয়া যায় তাহলে তো পাপীদের আরও সুবিধা, কারন পাপী ও অসৎ ব্যক্তি মনে মনে বলবে সারা জীবন পাপ করে জীবনে তিনটি চিল্লাহ দিব, তাহলেই সব পাপ খতম ! তিন চিল্লাহ দেওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় চিল্লাহ দেয়ার পরও চরিত্র সংশোধিত হয় নি, চিল্লাহ দেয়া পর্যন্তই শেষ। অনেককে দেখা যায় চিল্লাহ শেষ করে বাড়িতে আসার পর ঊর্ধ্বে সাত দিন সালাত আদায় করে, তারপর আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে যায়। আবার অনেককে দেখা যায় তিন চিল্লাহ দিয়ে এসেছে, মুখে লম্বা দাড়ি, গায়ে লম্বা আলখেল্লা কিন্তু পনের দিন পর গায়ের লম্বা কোর্তা তো উধাও এমনকি মুখের দাড়ি পর্যন্ত নেই, ক্লিন শেভ করেছে। তার সালাত আদায় করা ছুটে গেছে, সে হয়ত মনে মনে ভেবেছে তিন চিল্লাহ যখন দিয়েছি তাহলে তো আমি নিশ্চিতভাবেই জান্নাতি, আমার আর ইবাদতের দরকার নেই (নাউযুবিল্লাহ !)। এদের অনেকেই বলে থাকে তাবলীগ জামায়াতে সময় না লাগালে নাকি জীবনই বৃথা !!! আশ্চর্য তাহলে আমাদের পূর্ববর্তী যারা এই ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াত আবিষ্কার হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন...তারা সকলেই জাহান্নামী ? অনেকেই পিতা-মাতা, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিকে একা ফেলে, তাদেরকে কষ্ট দিয়ে চিল্লায় চলে যায়, এভাবে চিল্লায় যাওয়া কি মানবিক দৃষ্টিতে উচিৎ ? পরিবারের সদস্যদের হোক আদায় না করে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে তাবলীগ জামায়াত করে কি শরিয়া সম্মত ? তাবলীগ জামায়াতের ভক্ত অনেকে ঈদের আগে চিল্লায় চলে যান বাড়ি ফিরে আসেন ঈদের পর কিন্তু স্ত্রী, সন্তানদের জন্য কিছু কেনাকাটা পর্যন্ত করেন না। এমনকি গোশত বা শেমাই পর্যন্ত ক্রয় করে দিয়ে যান না, এরকম তাবলীগ করা কি সমীচীন ? অনেকে আবার হজ্জ থেকে ফিরে এসে বাড়িতে প্রবেশ না করেই চিল্লায় চলে যান অথচ তার প্রধান কর্তব্য ছিল দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে পরিবারের হক আগে আদায় করা। ইলিয়াসী তাবলীগীরা চিল্লাহ দেয় মসজিদে। রাসুল (সঃ) কোনও দিন মসজিদে চিল্লাহ দিয়েছেন কি ? সাহাবায়ে কেরামগন (রাঃ), তাবেইন, তাবে তাবেইন, পূর্বের ইমাম গন, অলিরা কি মসজিদে চিল্লাহ দিয়েছেন ? ইতিহাস থেকে জানা যায় যে রাসুল (সঃ) চিল্লাহ দিয়েছেন হেরা গুহায়। বাড়ির কাছে পবিত্র হেরেম শরিফ থাকা সত্ত্বেও তনি সেখানে না গিয়ে হেরা গুহায় গিয়েছেন। হজরত আদম (আঃ) চিল্লাহ দিয়েছেন আরাফাতের ময়দানে। হজরত মুসা (আঃ) চিল্লাহ দিয়েছেন তুর পাহাড়ে। আল্লাহ্‌র অলিরা চিল্লাহ দিয়েছেন নির্জন জঙ্গলে, খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) চিল্লাহ দিয়েছেন পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত হজরত দাতা গঞ্জে বকস (রহঃ) এর মাজার সংলগ্ন এলাকায়। শেখ ফরিদ (রহঃ) চিল্লাহ দিয়েছেন চট্টগ্রামের ষোলশহরের চশমা পাহাড়ে। হজরত বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) চিল্লাহ দিয়েছেন চট্টগ্রামের নাছিরাবাদ পাহাড়ে। হজরত শাহ আলী বাগদাদী (রহঃ) চিল্লাহ দিয়েছেন মিরপুরের নিজ খানকাহতে। রাসুল (সঃ), সাহাবাগন (রাঃ), তাবেইন, তাবে তাবেইন, ইমাম, অলিগন থেকে মসজিদে চিল্লা দেয়ার কোনও প্রমাণই পাওয়া যায় না। তাবলীগীরা এটা কোথায় পেলেন, কোন দলীলে মসজিদে চিল্লাহ দেয় ? হয়ত নতুন দলীল বা যুক্তি তারা সৃষ্টি করেছে। চিল্লাহ হল একাধারে কমপক্ষে চল্লিস দিন জনমানব থেকে দূরে গিয়ে আল্লাহ্‌র ধ্যান সাধনা তথা আত্মশুদ্ধি করা। মসজিদ কি জনমানব থেকে দূরে নাকি কাছে ? তারপরও উনারা মসজিদে একাধারে তিন দ্বীনের বেশী থাকেন না, এক মসজিদে তিন দিন থাকলে তের মসজিদে হয় উনচল্লিশ দিন। বাকি আর একদিন তারা কোথায় থাকে ? হয়ত আসা যাওয়ায় একদিন ব্যয় হয়, এই যদি হয় তাহলে তো চিল্লাহ হল না হল উনচিল্লাহ ! নামে চিল্লাহ কিন্তু কাজে উনচিল্লাহ, এ হল লুকোচুরি।

No comments:

Post a Comment